[10/05, 10:53]hu1: প্রতি বছর পুজোর আগে টিভি খুললেই দেখি — বনেদি বাড়ির ঝাড়বাতি, ঢাক, বংশের ইতিহাস ইত্যাদির গল্প। বলিউডের সিনেমাতেও কলকাতা মানেই বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো একটা আলাদা জায়গা পেয়ে গেছে — যেন এই বৈভবই বাংলার সংস্কৃতির একমাত্র প্রতিনিধি। ক্যামেরা জুম করে ঠাকুর দালানের ডোরিক থামের গায়ে, পদ্ম খিলানে, পঙ্খ বা ফুলকারির কাজে। খড়খড়ি ধরে দাঁড়িয়ে থাকা আবেগাপ্লুত উপস্থাপিকা নহবত খানা দেখাতে এগিয়ে যান। নিচে নাটমন্দিরে দাঁড়িয়ে ভ্লগাররা ওড়ায় ড্রোণ।
কিন্তু একটা প্রশ্ন কেউ করে না।
এই বাড়িগুলোর বনেদ গড়ে তোলার মূলধন কোথা থেকে এলো?
উনিশ শতকের বাংলায় যে পরিবারগুলো ব্রিটিশ শাসনের ছায়ায় বেড়ে উঠেছে — জমিদারি, নীলের ব্যবসা, কোম্পানির দালালি — তাদের সম্পদের শিকড় আছে অনেক গভীরে। অনেক ক্ষেত্রেই সেই ঝাড়বাতির পেছনে আছে নীলচাষীর পিঠে পড়া চাবুক, রায়তের কেড়ে নেওয়া জমি, প্রজার জোর করে আদায় করা খাজনা। সেই শ্রম, সেই কষ্ট, সেই রক্ত — সব জমাট বেঁধে গেছে বনেদিয়ানার ঝাড়বাতিতে, ডোরিক থামে আর পুজোর থালায়। যারা সেই শ্রম দিয়েছিল তারা কবে মরে গেছে। কিন্তু তাদের শ্রমের ভূত এখনো বেঁচে আছে — প্রতি বছর পুজোর আলো জ্বলে উঠলেই তাদের দেখা যায়।
মার্ক্স এই ঘটনার একটা নাম দিয়েছিলেন — মৃত শ্রম। ডেড লেবার।
কল্পনা করুন একটি কারখানা। ভোরবেলা একজন নতুন শ্রমিক ঢুকছেন। মেশিনগুলো স্থির, অপেক্ষমাণ। সুইচ টিপতেই শব্দ শুরু হয়। চাকা ঘোরে। কিন্তু অল্প সময়েই বোঝা যায় — তিনি মেশিন চালাচ্ছেন না। মেশিনই তাকে চালাচ্ছে। তার হাতের গতি, তার শ্বাসের ছন্দ, তার বিশ্রামের সময় — সব নির্ধারিত হচ্ছে যন্ত্রের নিয়মে।
এই যন্ত্র কে বানিয়েছিল? অনেক আগে, অনেক শ্রমিক। তাদের শ্রম জমাট বেঁধে যন্ত্র হয়ে গেছে। তাঁরা আর নেই। কিন্তু তাঁদের শ্রমের ভূত এখনও আছে — যন্ত্রের ভেতরে, কাঠামোর ভেতরে। এবং সেই ভূত আজকের জীবন্ত শ্রমিককে শাসন করছে।
ক্যাপিটাল-এ মার্ক্স লিখেছিলেন — মৃত শ্রম, ভ্যাম্পায়ারের মতো, জীবন্ত শ্রম শুষে বেঁচে থাকাই তার কাজ। আর যত বেশি শোষণ করে, তত বেশি বাঁচে।
বনেদি বাড়ির পুজোয় ঝাড়বাতির দিকে তাকালে কী দেখি? সোনালি আলো, কারুকাজ, পুরনো বৈভব। কিন্তু সেই বৈভব কীভাবে তৈরি হয়েছিল — সেটা দেখা যায় না। পণ্য তার জন্মের ইতিহাস মুছে ফেলে। শুধু থাকে চাকচিক্য।
মার্ক্স এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়াকে বলেছিলেন পণ্য-পূজা। মানুষের শ্রম যখন বস্তুর মধ্যে ঢুকে যায়, তখন সেই বস্তু নিজেই একটা রহস্যময় সত্তা হয়ে ওঠে — যেন তার মূল্য সে নিজেই তৈরি করেছে, কোনো মানুষের ঘাম ছাড়াই। ঝাড়বাতি জ্বলে। নীলচাষী মরে যায়। দুটোর মধ্যে সংযোগ কেউ খোঁজে না।
শিল্প বিপ্লবের আগে একজন তাঁতি বা কামার নিজেই নিজের যন্ত্রের মালিক ছিলেন, নিজের গতিতে কাজ করতেন। কিন্তু বড় কারখানা আর স্টিম ইঞ্জিন আসার পরে পরিস্থিতি বদলে গেল। বিশাল যন্ত্রের সামনে মানুষ হয়ে পড়ল তার একটা ছোট অংশ। আগে মানুষ যন্ত্র চালাত, এখন যন্ত্র মানুষকে চালাতে শুরু করল।
বোলপুরে ভাড়া বাড়িতে একা থাকতাম যখন, কাজ করতেন একজন। সন্তোষদা। সপ্তাহে দু-তিনদিন আসতেন। এক বালতি কাপড় কাচার জন্য নিতেন কুড়ি টাকা। সেটা ছিল তার বাড়তি রোজগার। আঠারো বছর আগের কথা।
তারপর একদিন ওয়াশিং মেশিন কিনলাম। সুবিধার জন্য। খরচ কমবে ভেবে। কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে তার কুড়ি টাকাটা বন্ধ হয়ে গেল। আমি কাউকে ছাড়াইনি। কোনো ঝগড়া হয়নি। শুধু একটা যন্ত্র এলো এবং একটা মানুষের রোজগারের একটা অংশ চলে গেল।
সেই যন্ত্রের ভেতরেও আছে কারখানার শ্রমিকের শ্রম, ইঞ্জিনিয়ারের শ্রম, ডিজাইনারের শ্রম। তারা কেউ আর সেই মুহূর্তে নেই। কিন্তু তাদের জমাট শ্রম প্রতিদিন আমার বাড়িতে কাজ করছে — এবং একজন জীবন্ত মানুষের কাজ কেড়ে নেয়।
এটাই মৃত শ্রমের ভূতের মতো ক্ষমতা।
বীরভূমের মাঠে এখন ধান কাটার মরসুমে হার্ভেস্টার আসে। একটা মেশিন এক দিনে যা কাজ করে, একশো শ্রমিক সপ্তাহভর খেটে সেটা করতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে। মেশিনের ভেতরে আছে অন্য কারখানার অন্য শ্রমিকদের জমাট শ্রম। সেই মৃত শ্রম এসে এই মাঠের জীবন্ত শ্রমিকদের সরিয়ে দিচ্ছে। তারা কোথায় যাবেন? শহরে। সেখানে আবার অন্য মৃত শ্রম অপেক্ষা করছে।
কিন্তু এই বাস্তুচ্যুতিকে কেউ সমস্যা বলে না। বলা হয় — "প্রযুক্তির অগ্রগতি।" "উৎপাদনশীলতা বেড়েছে।" যে শ্রমিক কাজ হারালেন, তাকে বলা হয় — "নতুন দক্ষতা শেখো।" অর্থাৎ মৃত শ্রমের আঘাতের দায় চাপানো হয় জীবন্ত শ্রমিকের ঘাড়ে।
দাদু জমি রেখে গেছেন। তিনি নেই। কিন্তু তাঁর শ্রম আছে — মাটির ভেতরে জমাট হয়ে। সেই মৃত শ্রম আজও কিছুটা হলেও ধরে রেখেছে। গ্রামের ঘোষেদের ছেলে হেসে খেলে দিন কাটায় — পূর্বপুরুষের জমাট শ্রম এত বেশি যে সে নিজে না খাটলেও চলে। আর জিতেন দুলে আমাদের মাঠে খেটেছেন, সেও খাটছে, তার ছেলেও খাটবে — কারণ তাদের মৃত শ্রম জমাট বাঁধেনি, সব খরচ হয়ে গেছে বেঁচে থাকতে।
এদের জন্মের দোষ কী ছিল?
কিন্তু ভ্যাম্পায়ার শুধু রক্ত চোষে না। শিকার যাতে পালাতে না পারে — সেটাও নিশ্চিত করে।
পুঁজিবাদী কাঠামোয় শ্রমিকের শরীর সবসময় "পণ্য" — এই সত্যটা সবচেয়ে নগ্নভাবে দেখা গিয়েছিল ১৭৮১ সালে। ঘানা থেকে ৪৪২ জন মানুষকে শিকলে বেঁধে জ্যামাইকার দিকে রওনা হয়েছিল জং জাহাজ। মাঝ আটলান্টিকে পানীয় জলের অভাব দেখা দিল। ক্যাপ্টেন লিউক কলিংউড তখন একটা হিসাব কষলেন — মানবিক নয়, আইনি।
সেই আমলের বিমা আইনে দুটো আলাদা নিয়ম ছিল। দাস যদি অসুস্থ হয়ে জাহাজের ভেতরে মারা যায় — সেটা মালিকের ক্ষতি, বিমা কোম্পানি কিছু দেবে না। কিন্তু যদি জাহাজ বিপদে পড়ে এবং "পণ্য বাঁচাতে পণ্য ফেলতে হয়" — সেটা বিমাযোগ্য ক্ষতি, প্রতিটি মরদেহের বদলে ৩০ পাউন্ড পাওয়া যাবে। অর্থাৎ দাসরা জলে মারা গেলে টাকা মেলে, জাহাজে মারা গেলে মেলে না।
কলিংউড সিদ্ধান্ত নিলেন — অসুস্থ হওয়ার আগেই ফেলে দাও।
সেকালে দাসদের পায়ে পরানো হতো "লেগ বোল্ট" — লোহার দণ্ডে দুজনকে জোড়ায় জোড়ায় বেঁধে রাখা হতো। একজনকে জলে ফেলা মানে অন্যজনও ডুববে — শিকল ছেঁড়ার উপায় নেই, চাবি থাকত ক্যাপ্টেনের কাছে। ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হলো। একজন একজন করে সমুদ্রে তলিয়ে গেল মোট ১৩২ জন।
আদালতে মামলা উঠল। বিচারপতি লর্ড ম্যানসফিল্ড রায় দিলেন — এই ঘটনা ঘোড়া বা অন্য পণ্য নষ্ট হওয়ার চেয়ে আলাদা কিছু নয়।
আদালত ভুল বলেনি। কারণ আইনটাই সেভাবে লেখা হয়েছিল। ওই মানুষগুলো আইনের চোখে মানুষ ছিল না — ছিল বিমা করা সম্পত্তি। কাঠামো আগেই ঠিক করে দিয়েছিল কে মানুষ, কে পণ্য।
আটলান্টিকের জাহাজে ছিল শ্রমিকদের পায়ে শিকল। আনন্দপুরের কারখানা বাইরে থেকে তালা দিয়ে রেখেছিল ম্যানেজার।
২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভোররাতে কলকাতার আনন্দপুরের একটি মোমো কারখানায় আগুন লাগে। তদন্তে উঠে আসে — অগ্নিকাণ্ডের রাতে কারখানার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। ভেতরে থাকা শ্রমিকরা বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও পারেননি। কেউ কেউ পরিবারকে ফোন করে নিজের মৃত্যুর আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। কারখানাটি ছিল অনুমোদনহীন — প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল কমপক্ষে আট।
দুটো ঘটনার মাঝে দুশো বছরের ব্যবধান। কাঠামোটা একটাই।
জং জাহাজে আইন আগেই ঠিক করে দিয়েছিল শ্রমিকের জীবনের দাম। আনন্দপুরে রাষ্ট্র আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল — অনুমোদনহীন কারখানা চলবে, শ্রম আইন মানা হবে না, মুনাফা আসবে। মৃত পুঁজির লোভ, পুরনো কাঠামোর ফাঁকি — সব জমাট বেঁধে ওই দরজার তালায় পরিণত হয়েছিল। শ্রমিকের জীবন সেখানেও "পণ্য" — লোকসান হলে ছেঁটে ফেলা যায়, পুড়ে গেলেও ক্ষতি নেই।
কিন্তু মার্ক্সের মৃত শ্রম শুধু যন্ত্রে বা তালায় থাকে না। কখনো কখনো সে শরীরেও ঢুকে পড়ে।
মহারাষ্ট্রের বিড় জেলা। খরাপ্রবণ, ধূসর। প্রতি বছর দশেরার পরে এখানকার হাজার হাজার পরিবার পাড়ি দেয় পশ্চিম মহারাষ্ট্রের আখের ক্ষেতে। স্বামী-স্ত্রী জোড়া শ্রমিক হিসেবে কাজ পায়। মরসুমের শুরুতে দেওয়া হয় অগ্রিম টাকা — যাকে বলে "উচল"। সেই টাকা হাতে নেওয়া মানে ফাঁদে পড়া। এখন থেকে শরীর আর নিজের নয়।
একজন নারীর পিরিয়ড হলে দু-তিনদিন কাজ কামাই হয়। কামাই মানেই জরিমানা। ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়। তখন কন্ট্রাক্টররা বোঝায় — জরায়ু বাদ দাও। পিরিয়ড হবে না। কাজ থামবে না।
স্থানীয় বেসরকারি ক্লিনিক সুযোগ বুঝে বলে — জরায়ুতে পচন ধরেছে, ক্যান্সার হতে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় অস্ত্রোপচার। সেই টাকাও অনেক সময় দেয় কন্ট্রাক্টর নিজে — কারণ তারা জানে একবার জরায়ু গেলে ওই নারী আরও কয়েক বছর বাধাহীনভাবে খাটবে।
বিড় জেলায় এভাবে ১৩ থেকে ১৪ হাজার নারীর জরায়ু কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকের বয়স ২৫-এর নিচে।
মৃত শ্রম জীবন্ত শ্রমকে শাসন করে। বিড়ে সেটা আর রূপক নয়। চিনিকলের মৃত পুঁজি — যন্ত্র, চুক্তি, ঋণের কাঠামো — একজন জীবন্ত নারীর শরীরের ভেতরে ঢুকে তার জরায়ু পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ করছে। ভূত আর বাইরে নেই। সে ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
সম্প্রতি দেখা গেছে একটি কারখানায় শ্রমিক কাজ করছেন — মাথায় ক্যামেরা বাঁধা। সেই ক্যামেরা রেকর্ড করছে তাঁর প্রতিটি নড়াচড়া, প্রতিটি দক্ষতা, প্রতিটি সিদ্ধান্ত। এই ডেটা দিয়ে AI শিখছে। এবং সেই AI একদিন এই শ্রমিকের কাজটাই করবে — তাঁকে ছাড়া।
শ্রমিক নিজেই নিজের ভূত তৈরি করছেন।
জং জাহাজে শ্রমিকের শরীর ছিল বিমার পণ্য। আনন্দপুরে শ্রমিকের জীবন ছিল মুনাফার বাধা। বিড়ে শ্রমিকের জরায়ু ছিল উৎপাদনের অন্তরায়। আর এই কারখানায় শ্রমিকের দক্ষতা হলো ডেটা — যা একবার সংগ্রহ হয়ে গেলে তাকে আর দরকার পড়বে না।
প্রতিবার একই প্রক্রিয়া। শ্রমিকের শরীর থেকে যা নেওয়ার নিয়ে নাও, তারপর ছুঁড়ে ফেলো।
এই সিরিজে এতদিন দেখেছি — শরীরে থাকে জৈবিক ভূত। সে থাকে DNA-তে, microbiome-এ পূর্বপুরুষের স্মৃতিতে। মার্ক্স দেখালেন শরীরে থাকে সামাজিক ভূতও। অতীতের শ্রম, পুঁজির কাঠামো, মৃত মানুষের তৈরি নিয়ম — সেগুলো জীবন্ত মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
ভূত এখন শ্মশানে থাকে না। সে থাকে কারখানায়, অ্যালগরিদমে, চুক্তির কাগজে, বন্ধ দরজার তালায়।
জৈবিক ভূত আমরা বেছে নিইনি। সামাজিক ভূতও আমরা বেছে নিইনি। কিন্তু একটা পার্থক্য আছে। জৈবিক ভূত বদলাতে লাগে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সামাজিক ভূত তখনই বদলানো যায় যদি তাকে দেখা যায়। যদি তার নাম দেওয়া যায়। যদি বোঝা যায় সে কোথা থেকে এসেছে।
বিড়ের সেই ২৫ বছরের নারী জানেন না মার্ক্সের নাম। কিন্তু তার শরীরেই লেখা আছে মার্ক্সের বলা সবচেয়ে নিষ্ঠুর সত্যটা।
আনন্দপুরের সেই শ্রমিক জানতেন না এই তালার পেছনে কোন তত্ত্ব কাজ করছে। কিন্তু তিনি দরজা ঠেলেছিলেন। বাঁচতে চেয়েছিলেন।
হয়তো এই কারণেই মৃত শ্রমকে মার্ক্স ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
ভ্যাম্পায়ার শুধু রক্ত খায় না। সে অমরও হয় — এক শরীর থেকে আরেক শরীরে সরে গিয়ে।
জং জাহাজ ডুবে গেছে। নীলকুঠি ভেঙে পড়েছে। অনেক বনেদি বাড়ির দেওয়ালে এখন স্যাঁতসেঁতে দাগ। কিন্তু ভূতগুলো মরে যায়নি। তারা শুধু শরীর বদলেছে।
যে রাষ্ট্রের এই হিসাব রাখার কথা ছিল — সেও নিজেও এই কাঠামোর অংশ হয়ে গেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভোট নেয়, বাজেট বানায়, সংসদে বক্তৃতা দেয়। কিন্তু অনুমোদনহীন কারখানা চলতে দেয়। শ্রম আইন কাগজেই লেখা থাকে। বিড়ের ক্লিনিক বন্ধ হয় না। কারণ মৃত পুঁজির সঙ্গে রাষ্ট্রের একটা পুরনো বোঝাপড়া আছে — ভূতকে বাঁচিয়ে রাখো, নিজে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকো। গণতন্ত্র এই ভূতকে হত্যা করে না। সে শুধু তার নাম বদলে দেয়। বলে — উন্নয়ন। বিনিয়োগ। কর্মসংস্থান।
আইনের খাতায় এই ঋণের কোনো হিসাব নেই। কারণ যারা পাওনাদার, তারা মরে গেছে। যারা বেঁচে আছে, তারা জানে না দাবি করতে হয়। আর যারা বকেয়া রেখেছে — তারা প্রতি বছর পুজোয় ঝাড়বাতি জ্বালায়।
Current day solutions statement in an even more longer narrative hidden in web linked videos and blogged write ups:
[10/05, 11:52]: Nice problem statement 👏👏
The solution appears to be here 👇
Creating emotional economies at scale that ensures everyone has a basic income to make them free to do whatever they want to under the purview of moral and ethical safeguards under watchful Orwellian ambient AI driven utopias (earlier conceived by Orwell as dystopian).👇